অপহরণের শিকার তিনশতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জনকে সশস্ত্রগোষ্ঠী বোকো হারামের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে নাইজেরিয়ার যৌথ বাহিনী। উদ্ধার অভিযানে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। মঙ্গলবার তাদের উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে তুর্কি গণমাধ্যম আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার ক্যাটসিনা রাজ্যের সরকারি একটি আবাসিক স্কুলে হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের অপহরণ করা হয়। পরে দায় স্বীকার করে বোকো হারাম।
রাজ্যের গভর্নর আমিনু মাসারি স্থানীয় রেডিওকে জানান, শিক্ষার্থী অপহরণের পরই তাদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।
২০১৪ সালে চিবুক অঞ্চল থেকে শতাধিক মেয়ে শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে বোকো হারাম। মঙ্গলবার কাটসিনা রাজ্যের শিক্ষার্থীদের অপহরণের দায়ও স্বীকার করে তারা।
রাজ্যের গভর্নর জানান, অপহরণের শিকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী রাজ্যের জামফারা বাগানে রয়েছে। তাদের রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ক্যাটসিনা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র গ্যাম্বু ইসা জানান, অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য আহত হয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের নিয়ে তল্লাশি এবং উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মোটর সাইকেলে এসে সরকারি মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয়টিতে হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গোলাগুলিও হয়। পালাতে বাধ্য হয় শিক্ষার্থীরা। পালানোর সময় জোর করে পাশের বাগানে নিয়ে শিক্ষার্থীদের লুকিয়ে ফেলে হামলাকারীরা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাশির সালিহি মাগাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শিক্ষার্থীদের বাবা-মা’কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের শিগগিরই উদ্ধারের। প্রতিদিন সন্তানদের মুক্ত করার জন্য বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন বাবা-মা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
কতজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে তা নিয়ে কয়েকরকম তথ্য রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারাও দুই রকম তথ্য দিয়েছেন। একবার জানানো হয়, ৩২০, পরে আবার বলা হয় ৩৩৩ জন। ফরাসি বার্তা সংস্থা স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে, ৫০০’র বেশি শিক্ষার্থী অপহরণের শিকার হয়েছে।
হামলার পরই রাজ্যের সব আবাসিক স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মাসারি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন